বাংলাদেশের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল তিনটায় জাতীয় সংসদে পেশ হতে যাচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান বিএনপি সরকারের এটিই প্রথম বাজেট। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল সম্ভাব্য বাজেটটি উপস্থাপন করবেন। প্রতিবারের মতো এবারও অর্থমন্ত্রী যখন বাজেট পেশ করতে সংসদে প্রবেশ করবেন, তখন সবার নজর থাকবে তাঁর হাতের সেই চিরচেনা ‘বাজেট ব্রিফকেস’-এর দিকে। যুগ যুগ ধরে চলে আসা এই ঐতিহ্যবাহী ব্রিফকেসের ভেতরে কোনো টাকা-পয়সা না থাকলেও থাকে পুরো দেশের আগামী এক বছরের কোটি কোটি টাকা আয়-ব্যয়ের ভাগ্যলিপি তথা বাজেট বক্তৃতার মূল খসড়া এবং অত্যন্ত গোপনীয় নথিপত্র।
১৮ শতকে যুক্তরাজ্য থেকে শুরু হওয়া এই ‘ব্রিফকেস প্রথার’ নেপথ্যে মূলত দুটি প্রধান কারণ রয়েছে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা আকবর আলি খানের মতে, শিল্পবিপ্লবের পর ইংল্যান্ডের অর্থনীতি বিশাল হয়ে যাওয়ায় বাজেট সংক্রান্ত বিপুল কাগজপত্র সাধারণ মানিব্যাগে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে, যার ফলে ব্রিফকেসের ব্যবহার শুরু হয়। দ্বিতীয়ত, বাজেটে কোন পণ্যের কর বাড়বে বা কমবে—তা আগে ফাঁস হলে অসাধু ব্যবসায়ীরা রাতারাতি বাজার নিয়ন্ত্রণ করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিতে পারে; তাই এই চরম গোপনীয়তা বজায় রাখার স্বার্থেই নথিগুলো ব্রিফকেসে করে আনা হয়। ১৮৬০ সালে ব্রিটেনের বাজেট প্রধান উইলিয়াম ই গ্ল্যাডস্টোনের সোনা দিয়ে রানির ছাপ দেওয়া ‘লাল স্যুটকেস’ থেকে শুরু করে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ১৯৭২ সালের বাজেট উপস্থাপনা—সবখানেই এই রীতি মানা হয়েছে। প্রথা অনুযায়ী এই রহস্যময় ব্রিফকেসের রঙ লাল, কালো কিংবা মেরুন হয়ে থাকে, যা খোলার পরেই মূলত উন্মোচিত হয় দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির আগামী দিনের রূপরেখা।
মন্তব্য করুন