পিরোজপুরের ভারানি খালে ভেসে যাওয়া বিমলা শিকদার (৭৫) নামের এক বৃদ্ধাকে নদী থেকে জীবিত উদ্ধার করে বীরত্ব ও মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ১২ বছর বয়সি শিশু মারিয়া. বুধবার (১৭ জুন) বিকালে পিরোজপুর পৌরসভার শেখ পাড়া (বসন্তপুল) এলাকায় এই ঘটনা ঘটে. চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মারিয়া খালের দিকে তাকিয়ে ওই বৃদ্ধাকে ভেসে যেতে দেখে তাৎক্ষণিকভাবে খালে নেমে তাঁর মাথা তুলে ধরে এবং টেনে রাস্তায় তুলে আনে. এরপর মারিয়া ও তার মা ওই বৃদ্ধার ভেজা কাপড় পরিবর্তন করিয়ে খাবারের ব্যবস্থা করেন. বৃদ্ধা মানসিক বিভ্রান্তির কারণে নিজের নাম-ঠিকানা স্পষ্ট বলতে না পারায় স্থানীয় গণমাধ্যম ‘স্বাধীন-২৪’ এবং ‘পিরোজপুর নিউজ’-এর লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে বিষয়টি চারদিকে জানাজানি হয়. খবর পেয়ে পিরোজপুর জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন.
পরবর্তীতে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া বিমলা শিকদার পিরোজপুর শহরের পালপাড়া এলাকার মৃত রতন শিকদারের মা. তাঁর নাতি জয় জানান, তাঁর দাদি প্রায়ই মানসিক সমস্যার কারণে বাসা থেকে একা একা বের হয়ে যান এবং ওইদিন সকাল থেকেও নিখোঁজ ছিলেন. পিরোজপুর সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আসিফ শেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ছাত্রদলের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে বৃদ্ধাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে. নিজের জীবন বাজি রেখে এক বৃদ্ধার প্রাণ বাঁচানোয় ছোট্ট মারিয়া ও তার পরিবার এখন পুরো জেলাজুড়ে প্রশংসায় ভাসছে. মারিয়ার মা জানান, বৃদ্ধার পরিবারের সন্ধান না মিললে তিনি পরম মমতায় তাকে নিজের কাছেই রেখে দিতেন.
মন্তব্য করুন