মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হওয়ার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব, লেবানন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর এই অঞ্চলে আমেরিকান নাগরিকদের ওপর বড় ধরনের হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত তাদের সকল নাগরিককে অবিলম্বে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই অঞ্চল ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে।
বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোর ওপর। দুবাইয়ে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের কাছে ইরানি ড্রোন আঘাত হেনেছে এবং সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত দূতাবাসেও ড্রোন হামলায় আগুনের ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই পরিস্থিতিকে ‘সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর ফলে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক ও জর্ডানসহ বিভিন্ন দেশে থাকা আমেরিকানদের বাণিজ্যিক ফ্লাইটে করে দ্রুত সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের জেরুজালেমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে যে পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে তাদের পক্ষে সরাসরি সব নাগরিককে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। দেশ ত্যাগের সুযোগও দিন দিন সীমিত হয়ে আসছে। পাকিস্তানেও যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটে হামলার চেষ্টা ও বড় ধরনের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত এই সামরিক অভিযান আরও কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে পারে।
তবে নিজ দেশের ভেতরেই ট্রাম্প প্রশাসনের এই কৌশল নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা অভিযোগ করেছেন যে প্রশাসন নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। আকাশপথ বন্ধ হওয়ার পর সতর্কতা জারি করাকে তারা ‘দুর্বল পরিকল্পনার’ প্রমাণ হিসেবে দেখছেন। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে একটি ভয়াবহ যুদ্ধের দামামা বাজছে, যা পুরো অঞ্চলের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
মন্তব্য করুন