করের হার না বাড়িয়ে বরং দেশের উৎপাদন ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের পরিধি সম্প্রসারণের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র্যাপিড) আয়োজিত এক বাজেট আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ড. তিতুমীর উল্লেখ করেন যে, সরকার বর্তমানে একটি নতুন অর্থনৈতিক মডেল অনুসরণ করছে, যা হচ্ছে ‘বিনিয়োগ থেকে উৎপাদন, উৎপাদন থেকে কর্মসংস্থান এবং কর্মসংস্থান থেকে করের হার না বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ বৃদ্ধি’। অতীতের স্থবির ও ঋণাত্মক বিনিয়োগের মডেল থেকে এটি সম্পূর্ণ আলাদা এবং এর মূল লক্ষ্য হলো নিজস্ব দেশোপযোগী কৌশলে উৎপাদনমুখী শিল্পায়নের মাধ্যমে বৈশ্বিক যেকোনো অনিশ্চয়তা ও সাপ্লাই চেইন সংকট মোকাবিলা করা।
বাজেট আলোচনায় দেশের জ্বালানি খাতের টেকসই উন্নয়ন ও সংস্কার নিয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ ভাবনার পাঁচটি মূল অংশ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা:
১. নবায়নযোগ্য ও আণবিক শক্তি: ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী তৈরি করতে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য ও আণবিক খাতের দিকে ধাপে ধাপে ধাবিত হওয়া।
২. জ্বালানি সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করা: সাধারণ মানুষের ক্রয়সীমার মধ্যে যেন জ্বালানি রাখা যায়, সেই লক্ষ্যে কাজ করা এবং জ্বালানিকে সবার জন্য ‘এফোরডেবল’ বা সাশ্রয়ী করে তোলা।
৩. অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন: অতীতে গ্যাস অনুসন্ধান বা উত্তোলনে অবহেলা করা হলেও বর্তমান সরকার দেশের অভ্যন্তরে এবং সমুদ্রে নতুন করে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
৪. স্থানীয়ভাবে সৌর বিদ্যুৎ খাতের উৎপাদন: সৌর বা নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের দিকে যাওয়ার লক্ষ্যে এর উৎপাদন যেন দেশের ভেতরেই করা যায়, সেজন্য চলমান বাজেটেই বিভিন্ন ধরনের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
৫. কারখানার চাহিদা পূরণ: প্রতিটি শিল্প কারখানার নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন বজায় রাখতে গ্যাসের সুনির্দিষ্ট প্রয়োজনীয়তা বা চাহিদা নিশ্চিত করা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. এম আবু ইউসুফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই বাজেট আলোচনা সভায় সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন র্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাক।
এছাড়া প্যানেল আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের উপাচার্য ড. রুবানা হক, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস ওয়ার্কারস সলিডারিটির সভাপতি তাসলিমা আখতার।
মন্তব্য করুন