ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর রাউন্ড অব ১৬ বা শেষ ষোলোর লড়াইয়ে এবার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিবেশী দেশ স্পেন ও পর্তুগাল। ‘আইবেরিয়ান ডার্বি’ নামে পরিচিত হাইভোল্টেজ এই ম্যাচটি ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে। ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শক্তির বিচারে দুই দলই কাছাকাছি অবস্থানে থাকায় ম্যাচটি নির্ধারিত ৯০ মিনিটে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম; বরং এটি অতিরিক্ত সময় বা টাইব্রেকারে গড়াতে পারে।
পরিসংখ্যান ও ডেটা বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান অপটা (Opta) সুপারকম্পিউটার তাদের ২৫ হাজারেরও বেশি সিমুলেশনের পর স্পেনের জয়ের পাল্লা কিছুটা ভারী বলে জানিয়েছে। তবে তাদের মতে, ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ে ড্র হওয়ার সম্ভাবনাও অনেক বেশি। অর্থাৎ, হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ম্যাচটি অতিরিক্ত ৩০ মিনিট কিংবা শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারের স্নায়ুচাপে গিয়ে নিষ্পত্তি হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে।
চলতি বিশ্বকাপে স্পেন এখন পর্যন্ত অন্যতম ভারসাম্যপূর্ণ দল হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে। তাদের রক্ষণভাগের দৃঢ়তা, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণভাগের ক্ষিপ্রতা প্রতিপক্ষের জন্য বড় চিন্তার কারণ। অন্যদিকে, শেষ ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে মানসিকভাবে দারুণ চাঙ্গা রয়েছে পর্তুগাল। দলে কিছুটা অস্থিরতা থাকলেও নকআউট পর্বে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর বিশাল অভিজ্ঞতা এবং ব্রুনো ফার্নান্দেজের সৃজনশীলতা যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, স্পেনকে কাগজে-কলমে ফেভারিট মানলেও পর্তুগালকে কোনোভাবেই হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। নকআউট পর্বের ম্যাচে ছোট একটি ভুলই বড় বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, দুই দলের সমানে সমান লড়াইয়ে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ফলাফল না এলে ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে। সেখানেও সমতা বিরাজ করলে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত হবে টাইব্রেকারের চরম নাটকীয়তায়।
মন্তব্য করুন