দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ
Mohammad Sujan
প্রকাশ : Aug 8, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

নিরুপায় কর্মজীবী মা: ৫ বছরের মেয়েকে ঘরে তালাবদ্ধ রেখে স্কুলে যান শিক্ষিকা

পেশাগত দায়িত্ব আর মাতৃত্বের দ্বৈত চাপে কতটা অসহায় হয়ে পড়েন একজন কর্মজীবী নারী? সেই অসহায়ত্বেরই এক করুণ ও বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার এক স্কুলশিক্ষিকার আবেগঘন ফেসবুক পোস্টে।

নিজের মাত্র ৫ বছর বয়সী শিশুকন্যাকে প্রতিদিন একা ঘরে তালাবদ্ধ রেখে স্কুলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন উম্মে হাফছা সুমা নামের এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর কর্মজীবী মায়েদের সংকট এবং ডে-কেয়ার সেন্টারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

‘সন্তানরা কতটা অসহায়...

উম্মে হাফছা সুমা বাউফলের দাসপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক। সম্প্রতি তিনি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে নিজের এই অসহায়ত্ব তুলে ধরে লেখেন,

"আমার একটি মাত্র মেয়ে। তার বয়স পাঁচ বছর সাত মাস। প্রতিদিন এই ছোট্ট মেয়েটিকে বাসায় একা তালাবদ্ধ রেখে স্কুলে যেতে হয়। বাসায় দেখাশোনার মতো আর কেউ নেই। যত নিয়ম, যেন শুধু চাকরিজীবী মায়েদের সন্তানদের জন্যই। সন্তানরা কতটা অসহায়..."

সিসি ক্যামেরায় মেয়ের ওপর নজরদারি

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিক্ষিকা সুমা স্কুল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নাজিরপুর বাংলাবাজার এলাকায় বসবাস করেন। তার স্বামী ঢাকায় চাকরি করার কারণে তাকে একাই সন্তান সামলাতে হয়।

তিনি জানান, আগে মেয়েকে স্কুলে নিয়ে গেলেও নানা সমস্যার কারণে এখন আর নেওয়া সম্ভব হয় না। দেশে শিশু নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়েই মেয়েকে ঘরে তালাবদ্ধ করে রেখে যান তিনি। তবে মেয়ের নিরাপত্তার কথা ভেবে রুমে একটি সিসি ক্যামেরা লাগিয়েছেন, যার সংযোগ তার মোবাইলে যুক্ত। স্কুলে অবসরে বা অফ টাইমে তিনি মোবাইল থেকে মেয়েকে দেখেন এবং কথাও বলেন।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার পর নানাজনের নানা মন্তব্যের কারণে পরবর্তীতে তিনি পোস্টটি মুছে (ডিলিট) ফেলেন বলে জানান।

ডে-কেয়ার সেন্টারের চরম অভাব

পাঁচ বছরের একটি শিশুকে একা ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখা শিশুটির মানসিক বিকাশ ও নিরাপত্তার জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। এই ঘটনাটি সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কর্মজীবী মায়েদের সন্তানদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের তীব্র প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সালেহ আহমেদ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, "ঘটনাটি সত্যিই দুঃখজনক। আমার জানামতে সরকারিভাবে উপজেলা বা জেলায় কোনো ডে-কেয়ার সেন্টার নেই। তবে যে সকল কর্মজীবী মায়ের ছোট বাচ্চা আছে, তাদের সুবিধার্থে ডে-কেয়ার থাকা অত্যন্ত জরুরি।"

উম্মে হাফছা সুমার এই ঘটনা শুধু একজন মায়ের কষ্ট নয়, বরং এটি হাজারো কর্মজীবী মায়ের নীরব কান্নার এক জ্বলন্ত প্রতিচ্ছবি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্মজীবী নারীদের এই সংকটে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা সুধীসমাজের।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১,৫০৪ কোটি টাকার বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঘোষণা করল শেল্‌টেক গ্রুপ

1

নির্বাচনের আগে অডিও ফাঁস নিয়ে বিতর্ক, যা বললেন জয় চৌধুরী

2

বেনজীরের কারামুক্তির 'আনুষ্ঠানিক তথ্য' নেই দুদকের কাছে, দাবি

3

সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং তোপে ধ্বংসস্তূপে ইংল্যান্ড

4

বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় লাফ: আউন্স ছাড়াল ৪ হাজার ১৭৬ ডলার

5

গোপালগঞ্জে একসঙ্গে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ ছাড়লেন বাবা-ছেলে

6

নওগাঁয় মাদরাসা শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু, মরদেহ উদ্ধার

7

ব্রাজিলের ম্যাচসহ টিভিতে আজকের খেলার সময়সূচি ও চ্যানেল

8

পদ্মা সেতু পেরিয়ে বরিশালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: দক্ষিণা

9

আরএফএল গ্রুপে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্ত

10

নাভিতে ক্যাস্টর অয়েল মালিশের ৫টি অসাধারণ স্বাস্থ্য উপকারিতা

11

রোনালদোর বিশ্বকাপ স্বপ্ন অধরাই রইল, বিদায় নিলেন অশ্রুসিক্ত চ

12

৩ দিন ধরে অন্ধকারে জাপান গার্ডেন সিটি, ফুঁসছেন বাসিন্দারা

13

লক্ষ্মীপুরে মা ও তিন বোনকে হারিয়ে বন্ধ ঘরের সামনে স্তব্ধ কিশ

14

খাবারের আগে নাকি পরে ফল খাবেন? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

15

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন ব

16

শেখ হাসিনার দেশে ফিরতে চাওয়া ‘রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি’: চিফ প

17

স্বাধীন তিব্বতের দাবিতে জাতিসংঘ দপ্তরের সামনে যুবকের আত্মাহু

18

নেইমারের রসিকতা: জ্যোতিষী অর্থনীতিবিদকে ট্রোল করে যা লিখলেন

19

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের অভিনন্দন

20